দেশের পুঁজিবাজারে গতকাল বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে দরপতন হয়েছে। এর প্রভাবে সূচকে নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ১৭ পয়েন্ট কমলেও দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর পর প্রথম ৪৫ মিনিট ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। এরপর শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় পয়েন্ট হারাতে থাকে সূচক। দিন শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৭১৯ পয়েন্টে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪ হাজার ৭৩৬ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০ আগের দিনের তুলনায় ৪ দশামক ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৪২ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৭৪৭ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস সামান্য বেড়ে ১ হাজার ৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল স্কয়ার ফার্মার ১ দশমিক ৭ শতাংশ, ইউসিবি ব্যাংকের ৪ দশমিক ৭, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ১ দশমিক ৭, ওয়ান ব্যাংকের ৭ দশমিক ৯, ইসলামী ব্যাংকের দশমিক ৬, সিটি ব্যাংকের ১ দশমিক ৬, এনআরবি ব্যাংকের ৭ দশমিক ১, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২ দশমিক ৪, রবির ১ দশমিক ৩ ও গ্রামীণফোনের দশমিক ৪ শতাংশ দরপতন হয়েছে। এ বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর পতনের ফলে ডিএসইর সূচক ১৭ দশমিক ৭ পয়েন্ট কমেছে।
ডিএসইতে গতকাল ২৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এদিন লেনদেন হওয়া ৩৯৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ১৪৬টির, কমেছে ১৬৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৮৪টির বাজারদর।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়েছে প্রকৌশল খাত। ১০ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ১০ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে খাতভিত্তিক রিটার্নের ক্ষেত্রে মিশ্র অবস্থা দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে ১ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে দশমিক ৯ ও টেলিযোগাযোগ খাতে দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে চামড়া খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দশমিক ৭ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে দশমিক ৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।